মেহেরজান এসময়ের সমালোচিত চরিত্র। এই চরিত্রের মুল উপাদান আইন ও সালিস কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত "নারীর একাত্তর" বইয়ের পৃ. ১৪৫ এর কাহিনী যেখানে বলা হয়েছে "...পাকিস্তানি বাহিনীর মেজর আলতাফ করিম প্রিয়ভাষিণীর জীবন বাঁচান এবং সেনাশিবিরের ক্রমাগত নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করেন ... " ব্যস।। এতটুকু তথ্যের উপর নির্ভর করে পুরো সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে একটি কাল্পনিক কাহিনীর উপর । একটি চলচ্চিত্র এমন কাহিনীর উপর নির্মিত হতেই পারে কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মুক্তিযুদ্ধের মতো এমন সংবেদনশীল বিষয়ের এমন কাল্পনিক বয়ান নিয়ে। যেখানে পরিচালক মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করেছেন, বীরঙ্গনাদের নির্যাতন-নিপীড়ণকে গৌণ করে বরং নির্লজ্জ প্রেমের খেলায় মেতেছেন এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হায়েনাদেরকে মানবিক বোধের মানুষ বানানোর ঘৃণ্য প্রয়াস নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল (!!) পরিচালকের মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্লেষনের নামে এমন পাকিস্তানপ্রেম কে ধিক্কার জানাই ।

আজকের প্রথম আলোতে রুবাইয়াত নিজেকে ডিফেন্ড করছেন । ব্লগে কিংবা যেকোন আলোচনায় পাকিস্তানপ্রেমীরা যেভাবে ইতিহাস হাতড়ে খুঁজে মরেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তেমনিভাবে তিনি হাতড়ে খুঁজেছেন কতজন নারী ধর্ষিত হয়েছেন, আর তার তথ্য প্রমাণ। প্রশ্ন জাগে আর কতজন নারী ধর্ষিত হলে তিনি সঠিক ইতিহাস খুঁজে পেতেন ?? নিজেকে ডিফেন্ড করতে তিনি তথ্য প্রমাণ খুঁজেন অথচ তিনি তার সিনেমা নির্মান করেছেন ঐতিহাসিক পটভূমিতে কিন্তু কল্পনার ভিত্তিতে। নাকি তিনি খুঁজছিলেন পাকিস্তানীদের মহান বানানো দলিল-দস্তাবেজ ? না পেয়ে তিনি আশাহত হয়েই এমন কাল্পনিক আখ্যানের আশ্রয়ে মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করে বীরঙ্গনাদের যাতনাকে নিয়ে এমন রঙ্গলীলায় মেতে উঠেছেন !?! আর পাকিস্থানী মেজরকে বানিয়েছেন তার হিরো । নৃশংস পাকিস্তানী হয়েছে মহান !! এমন পাকিস্তানপ্রেম এর জন্য তাকে বাহবা পেতেই পারেন !!!!!! তবে মজার বিষয় হচ্ছে তিনি নাকি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে থিসিস করেছেন বীরঙ্গনাদের নিয়ে !! আর নির্মাণ করেছেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর একটি উক্তি থেকে অথচ উনি প্রিয়ভাষিণীর উপর যে অন্যায় অত্যাচার আর নির্যাতন করা হয়েছে তা গৌণ্য করে ফেললেন।
তিনি বলেছেন ইতিহাসকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখার সুযোগ আছে । হুমম .. তা ঠিক । আমরা যখন দেখি একজন বীরঙ্গনার নিযার্তনের নির্মম চিত্র ঠিক সেই ছবিটি তিনি দেখেন বীরঙ্গনার নির্লজ্জ প্রেমলীলা। এই ভিন্ন দৃষ্টিভংগি অবশ্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। যে দৃষ্টিভংগি রাজাকার আর দোসরদের। এই সময়ে এই ছবি প্রদর্শনের পিছনে অন্যকোন ইন্ধন আছে কিনা গূঢ় কোন রহস্য আছে কিনা, সেভাবনার অবকাশ থেকে যায়।
মেহেরজান নির্লজ্জ ইতিহাস বিকৃতির ছবি। শহীদ-বীরঙ্গনাদের আত্মত্যাগের সাথে প্রতারণার ছবি। মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা ঔদ্ধতপূর্ণ, বেহেয়াপনার ফ্যান্টাসী।


2 comments:
এই ছিঃনামা লইয়া যেহারে আলোচনা চলতেছে তাতে কিন্তু অনেকেই আগ্রহ লইয়া ওটা দেখতে যাইতেছে,কিন্তু ওটা না দেইখা বরং ফুচকা খাইলে টাকাটা কামে লাগত এই কথাটা কিন্তু কেউ কইতাছেন না । সব কিছু বাদ দিয়া যদি হুদা একটা ছিঃনামা হিসেবে কই তাইলে কিন্তু এটা দেখার কিছু না, না আছে যুদ্ধ না প্রেম- কিচ্চু হয় নাই । বেহুদা টাকা আর সময় নষ্ট।
টাকা থাকলে ডিরেক্টরো হওন যায়, ছিঃনামাটা দেখলে এইটা বুঝা যায়
yes...bt j deshe rajakarera rajniti korar sujog pay,se dese emon chobi hobe eta "onnay" hote pare kin2 "osshavabik" na.,...the film was nt soo good,bt wasn't so bad yet...amader mone pak der jonne ghrina ase.kin2 ta jeno eto ta bere na jay j tader ekta manobik kajkeo amra upekkha kore jai,sudhu ei jonne j she pakistani
Post a Comment