উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি আবার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, "চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ সরকার করবে না। বাংলাদেশে যাতে উপমহাদেশের অন্যান্য দেশের চলচ্চিত্র না আসতে পারে সে ব্যবস্থা নেবো আমরা।"
উপমহাদেশের চলচ্চিত্র আমদানির সিদ্ধান্তে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এমনকি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নন শুধু দর্শক তবে সে কোনদিন হলে বসে বাংলা সিনেমা দেখেননি এমন দর্শকরা্ই ভীষণ প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন । ভারতীয় চলচ্চিত্র এলে এদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বারোটা বাজবে । এই প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সরকার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন ।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদকারীরা সুকৌশলে উপমহাদেশের স্থলে শুধু ভারতীয় শব্দটি ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক চাতুরতার আশ্রয় নিয়েছিল । বলা বাহুল্য সেই চাতুর্যে তারা শতভাগ সফল । কেননা এদেশে ভারত এলার্জি রয়েছে । সেটাই তারা কাজে লাগিয়েছে ।
প্রসংগে আসি । অনেকেই সরকারকে সাধুবাদ দিচ্ছেন । সরকার চলচ্চিত্রের মতন এতো বড় শিল্পকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করছিল সেটা এখন না করার জন্য তারা খুব খুশি । কিন্তু সেই চলচ্চিত্রপ্রেমী দেশপ্রেমীরা কি কখনও চলচ্চিত্র শিল্পকে চাঙ্গা করতে কখনও সিনেমা হলে গিয়েছিলেন ?? না গেলে আসুন আগামী কালই যাই । দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করি । যাবেন তো ডিপজলের ছবি দেখতে ??
উত্তরটা আমি দিচ্ছি । উত্তরটা হবে না । কেন ?? সে বিষয়ে হাজারো যুক্তি আছে আর সবগুলোই হয়তো গ্রহনযোগ্য । তবে উপায় ?? আপনি আমি সিনেমা হলে না গেলে কি সিনেমা চলবে না ?? চলবে । তবে চলচ্চিত্রের মতো এতো বিশাল শিল্প আগের মতোই খুড়ে খুড়েই চলবে । এতো সম্ভাবনাময় বিশাল শিল্পটিও রুগ্ন শিল্পের মতোই চলবে ।
এই শিল্পে কালোটাকার মালিকরা কালো টাকা সাদা করার জন্যে লগ্নি করবেন, ফুর্তির জন্য নায়িকা বানাবেন, চলচ্চিত্র সম্পর্কে আ ও ক খ না জানারাই সিনেমা বানাবেন, পরিবেশকরা সব ছবির সাথে এক্সাটা কাটপিস দিয়ে দেবেন, হল মালিকরা সেই সিনেমার সাথে পর্ণো কাটপিস লাগিয়ে সেটা হলে দেখাবেন আর দেশের হতদরিদ্র বিনোদনহীন মানুষ সেই স্হুল নায়িকার স্থুল বুকপেট দেখে খুশিতে শীষ দিয়ে উঠবেন । আর আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আরো স্থুলদের দখলে চলে যাবে । দীর্ঘ ৪০ বছর ভারতীয় তথা বিদেশী সিনেমা না দেখিয়ে আমাদের অর্জন হলো এই । এই চক্রে যে মাফিয়া ডনরা নিয়ন্ত্রন করছেন তারা এই চক্র কোনভাবেই ভাংগতে দেবেন না । তাই তাদের প্রতিবাদ কি অযৌক্তিক ??
আরো আছেন হাল আমলের ছোটপর্দার মালিকদের চলচ্চিত্র প্রযোজক হয়ে ওঠা । মাত্র ৩০ লক্ষ টাকা লগ্নি করে এফিডিসির সিনেমার চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে তারা নির্মান করছেন তথাকথিত ভালো চলচ্চিত্র যার ৯০ শতাংশই অন্যসময় হলে স্রেফ টেলিভিশনের নাটক হিসেবেই প্রচারিত হতো । সেই ৩০ টাকার লগ্নিসহ লাভ উঠে আসে এক তথাকথিত প্রিমিয়ার শোতেই আর সেই চলচ্চিত্র দেখার মানে হলো বিজ্ঞাপন বিরতির মাঝে সিনেমা দেখা । আর এরপরের ২-৪ টা সিনেমা হলে চললে তো বোনাস । এফডিসিকে গালি দিয়ে সেই টেলিভিশনের নাটককে যারা সিনেমা বলে হালাল করছেন তারা সেই এফডিসির অশিক্ষিত কিংবা স্বল্পশিক্ষিতদের সিনেমার কলাকৌশলের কাছে নিতান্তই না বালক । এই চক্রটি ও চায় না তাদের সেই জমজমাট রমরমা সিনেমা সিনেমা খেলার ব্যবসাটা বন্ধ হয়ে যাক ।
অথচ চলচ্চিত্রের মতোন এই বিশাল শক্তিশালী গণমাধ্যমটিকে যেমন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সক্ষম আবার ঠিক তেমনি দেশের ভাবমুর্তিকে শক্তিশালী করতেও সক্ষম । স্রেফ ভারত-ইরান কিংবা চায়নার চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষমতা তো কারো অজানা নয় ।
আর এদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের এই করুণ দায়সারা গোছের কাজের জন্য দায়ী তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রিত চক্র ।যে চক্রটি তাদের নিজেদের স্বার্থে এই শিল্পের বিকাশকে রুদ্ধ করে রেখেছে । তারা চায়না তাদের এককছত্র আধিপত্যে কোন প্রতিদ্বন্দী আসুক । আর যদি বিদেশেী সিনেমা এদেশে অবাধ প্রদর্শন করা যেত তবে অবশ্যই তা এদেশের চলচ্চিত্র কলাকুশলী দর্শককে সমৃদ্ধ করতো । চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তাদের মোনটনাস রীতিকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখত । আর অস্তিত্বের স্বার্থেই ভালো সিনেমা নির্মানে আগ্রহী হতো । কেননা মানুষের মেধা বিকাশে চাই উন্মুক্ত পরিবেশ, চাই উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ।মনেরাখা দরকার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে স্ট্রাইকারের দরকার নেই, বলে লাথি দিতে জানলেই চলে । আর নইলে সবকিছু নষ্টদের অধিকারেই চলে যাবে ।
আর আমরা যারা মধ্যবিত্ত যাদের বিনোদনের বড় অভাব তারা সেই ১৫ ইঞ্চি বাক্সের মাঝেই জীবনের সব বিনোদন খুজি । আর নইলে এদেশের সকল বিবাহিত মানুষের স্রেফ সংগম ছাড়া আর কোন তো বিনোদন নাই ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)



0 comments:
Post a Comment