Saturday, April 3, 2010

এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে??


একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । যদিও অনেকেরই সন্দেহ ছিল আওয়ামী লীগ স্রেফ ভোটের রাজনীতির জন্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বুলি আওরায় । একটি প্রক্রিয়া শুরুর পর অন্ততঃ সন্দেহ বাতিকদের সন্দেহ ঘুচানোর কথা । অবশ্য যারা স্রেফ সমালোচনাই করতে জানেন তাদের মনের সন্দেহ কোনভাবে দূর হবার নয় । এই প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথে কিছু প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে ।
দেশের অধিকাংশ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । এ সময়ে দেশের সবখানে, ঘরে-বাইরে, ব্লগে-বন্দরে , পত্রিকা-টেলিভীশনে সর্বত্র আলোচ্য বিষয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল সেই অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া এবারই কিন্তু প্রথম নয় । মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সরকার সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল । কিন্তু শেষ হয়নি । তারা রক্ষা পেয়েছিল । কিভাবে তারা রক্ষা পেয়েছিল কিংবা কারা কিভাবে তাদের রক্ষা করেছিল তা এখন ইতিহাস । ইতিহাস জানতে আগ্রহীরা একটু খোঁজ-খবর নিলেই সেটা জানতে পারবেন ।
১৯৭১ পরবর্তি সময় যুদ্ধাপরাধীরা (যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল) যদি রক্ষা পেয়ে যায় তবে এবারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া থেকেও তারা রক্ষা পেতে মরিয়া । মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে এইসব যুদ্ধাপরাধীদের স্বজনরা ছাড়া আপনজন কেউ ছিল না । আর ছিল তাদের পাকিস্থানী আব্বা ও তাদের বৈদেশিক বন্ধুরা । কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট একটু ভিন্ন । দীর্ঘদিন ধরে তারা রাজনীতে পূর্ণবাসিত । তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা আছে, যারা সেই ১৯৭৬ সন থেকে এক অপরে আষ্টে-পিষ্ঠে বেধে। আছে তাদের মগজধোলাই করা ছাত্রশিবিরের কর্মীরা। আছে তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় লালিত-পালিত উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদীরা । আর বিদেশী বন্ধু আর পেট্রোডলার তো থাকছেই ।

১৯৭৫ সালের পর থেকে এদেশে জামাত-শিবির রাজনীতি শুরু করেছে আবার । তখন থেকে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক লক্ষ্যে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে । সেই লক্ষে সমাজের সর্বস্তরে তারা নিয়োগ করেছে তাদের মতাদর্শের নিজস্ব লোকজন । সেটা সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে । এককথায় তাদের রয়েছে একটি পরিপূর্ণ কাঠামো । যে কাঠামো পূর্ণনিমার্ণ শুরু হয়েছে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে । যারা এখন রয়েছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা পেশায় এবং পদে । যাদের অনেকেই সম্পূর্ণ রূপে বর্ণচোরা ।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সদর্ভে বিরোধিতাকারী এই রাজনৈতিক দল জামাতী ইসলামের উপরের সারির বেশির ভাগ নেতাই ফেঁসে যাবে । নিজেদের জীবন বাচাতে মরিয়া এই নেতারা । যাদের রাজনৈতিক জীবনে মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে । হত্যা-ষড়যন্ত্র যাদের রাজনীতিরই অংশ । তারা কি নিজেদের রক্ষা করতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে না ??

জামাত-শিবির তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে মনে করছে তখন তারা নিজেদের রক্ষা করতে যেকোন কিছুই করতে পারে । যে প্রক্রিয়াতেই হোক তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল করার চেষ্টা করবে । সেটাই স্বাভাবিক । এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে?? আপনাদের সুচিন্তিত মতামত প্রত্যাশা করি । কেননা তাদের সম্ভাব্য পরিকল্পনা তথা কর্মপন্থা যদি আমরা কোনভাবে আন্দাজ করতে পারি আর জনগনকে জানাতে পারি তবেই জনগণ বিভ্রান্ত হবে না । কারণ সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এমন কি মিথ্যা ভয় দেখাতে তারা পারদর্শী । মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করেই, ভয় দেখিয়েই তারা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটে । নিজের স্বার্থে জামাত কি করতে পারে সেটা হয়তো আমাদের কল্পনারও অতীত । তবে মোটা দাগে সহজ করে বলা যায় এই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক উৎখাত করতে পারলেই তাদের চলবে। তাই সরকারকে যেকোনভাবেই হোক জনপ্রিয়হীন করতে পারলে কিংবা জনগনকে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ করতে পারলেই , যেকোন ইস্যুতে একটি চরম আন্দোলন করতে পারলেই কেবল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে একবারে থামানো কিংবা আরো দীর্ঘায়িত করা যায় ।যদি আসলেই আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই আমাদের আরো সাবধান হতে হবে । নিজেদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে । যেন কান চিল নিয়ে যেতে না পারে ।

3 comments:

Mirza on April 4, 2010 1:55 AM said...

Good job, go ahead....

Anonymous said...

khub valo kotah pakistani rajakar der bichar hobe. we are happy to know that. But arecta bicharo korte hobe seta holo indian rajakar..era amader deshe anache kanache lukia ache...pakistani rajakar der jemon kothor bichar hote hobe temni edero kothor bichar hote hobe. era pakistani rajakr der cheyo danger ora rajakri korche 9 moths r era korche 40 years dhore.

Raha on April 10, 2010 1:30 AM said...

MR. Anonymous
সত্যি কথা বলতে সাহস লাগে , সেটা আপনার নাই থাকলে নিজ নামে মন্তব্য করতেন যাই হোক indian rajakar এই টার্মটা আপনার কাছে শুনলাম,"এবার যুদ্ধাপরাধীরা রক্ষা পাবে কি করে?? যুদ্ধাপরাধীদের কিংবা তাদের রক্ষকদের(তথা শুভাকাঙ্ক্ষীদের) সম্ভাব্য পরিকল্পনা আর কর্মপন্থা কি হতে পারে??" এ নিয়া মন্তব্য করলেন না
শুধু বলি রাজাকারদের এবার ক্ষমা নাই

 

Copyright 2008 All Rights Reserved @Raha Revolution Two Church theme by Brian Gardner Converted into Blogger Template by Bloganol dot com